প্রচ্ছদ স্বাস্থ্য গর্ভবতী নারীরা যে ৫ ভুল কখনো করবেন না

গর্ভবতী নারীরা যে ৫ ভুল কখনো করবেন না

193
গর্ভবতী নারীরা যে ৫ ভুল কখনো করবেন না

গর্ভবতী প্রায় সব নারীই কয়েকটি সাধারণ ভুল করেন। এ ভুলগুলো এড়িয়ে চলতে পারলে স্বাস্থ্যকর গর্ভাবস্থা ধরে রাখা সম্ভব।
জেনে নিন তেমনই কয়েকটি ভুল যা গর্ভবতী নারীদের হয়ে থাকে।

১. গর্ভাবস্থায় বাড়তি যত্ন প্রয়োজন হয়। কোনো কোনো গর্ভবতী নারী গর্ভাবস্থাকে অসুস্থতা ধরে নিয়ে শুয়ে-বসে থাকেন। এটা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। গর্ভাবস্থায়ও শরীর সচল রাখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ কারণে স্বল্পমাত্রায় শারীরিক কার্যক্রম যেমন চালাতে হবে, একইসঙ্গে স্বাস্থ্যকর খাবারও খেতে হবে। এছাড়া কিছু খাবার ও ওষুধপত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

২. গর্ভাবস্থায় প্রয়োজনের তুলনায় কম খাবার খান এমন নারীর সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। অনেকে আবার প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবারও খান।

দুটোই গর্ভাবস্থায় ক্ষতিকর প্রভাব রাখে। অনেক নারীর ওজন মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যায়। এ কারণে নির্দিষ্ট মাত্রা অনুযায়ী খাবার খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

৩. গর্ভাবস্থায় সুস্থ থাকার জন্য প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া উচিত। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় টিকা নিতে দেরি করা যাবে না। এটি সুস্থ সন্তান জন্মদানের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

৪. সুস্থ গর্ভধারণের জন্য কিছু ব্যায়াম রয়েছে। এগুলো পেটের মাংসপেশিকে স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে এবং সন্তান ধারণে উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে গর্ভাবস্থায় উপযোগী ব্যায়াম করতে হবে।

৫. অনেক গর্ভবর্ত নারী যেমন সঠিক মাত্রায় ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্ট খেতে চান না তেমন অনেক নারী আবার অতিরিক্ত ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্ট সেবন করেন। উভয় বিষয়ই ক্ষতিকর। এ কারণে চিকিৎসকের পরামর্শমতো সঠিক মাত্রায় ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত। মনে রাখতে হবে, বাড়তি ডোজ যেমন ক্ষতিকর হতে পারে তেমন প্রয়োজনের তুলনায় কম ডোজও ক্ষতিকর হতে পারে।

ভালো থাকুন: গর্ভাবস্থায় কোমর ব্যথা?

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায়, বিশেষ করে শেষের দিকে কোমর ব্যথা মেয়েদের একটি বড় কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কোমর ব্যথার কারণে হাঁটা, চলাচল করতে কষ্ট, রাতে ঘুম আসে না, অনেকে সারা রাত পিঠে বালিশ দিয়ে বসে কাটান।

কোমর ব্যথা কেন হয়?: গর্ভাবস্থায় শরীরের ওজন বাড়ে, ভারী হয়। তাই পেশি ও সন্ধির ওপর চাপ বাড়ে।
প্রসবের কিছুদিন আগে থেকে স্বাভাবিক প্রসবের প্রস্তুতিস্বরূপ রিলাক্সিন হরমোনের প্রভাবে কোমরের স্যাক্রোআইলিয়াক জয়েন্টের লিগামেন্টগুলো শিথিল হয়, ফলে ভার বহনক্ষমতা কমে যায়। ব্যথা বাড়ে।

জরায়ু বড় হওয়ার কারণে মায়ের শরীরের ভরকেন্দ্র পরিবর্তিত হয়, পিঠের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। কোমর ব্যথার এটিও একটি কারণ। মাতৃত্বকালীন স্ট্রেসও কোমর ব্যথার কারণ হিসেবে কাজ করে।

কী করে আরাম পাবেন?: * সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো ব্যায়াম। নিয়মিত ব্যায়াম কোমরের পেশি ও সন্ধির কার্যক্ষমতা বাড়াবে, ব্যথা কমাবে। গর্ভাবস্থায় হাঁটাহাঁটি ও সাঁতার হলো সবচেয়ে ভালো ব্যায়াম।
* হাইহিল ও একেবারে ফ্ল্যাট জুতো—দুটোই শরীরের ওজনের ভারসাম্য নষ্ট করে। হালকা উঁচু নরম সোলের জুতো ব্যবহার করতে হবে।
* চিত হয়ে না শুয়ে বাঁ কাত হয়ে শুতে চেষ্টা করুন। দুই পায়ের মাঝখানে এবং পিঠের নিচে বালিশ দিয়ে ঘুমালে মেরুদণ্ডের চাপ কমবে।
* গরম ও ঠান্ডা পানির সেঁক নিতে পারেন। তবে পানির তাপমাত্রা যেন সহনীয় থাকে।
* নিচু হয়ে ঝুঁকে কোনো কাজ করা যাবে না। সোজা দাঁড়িয়ে বা বসে কাজ করুন। ভারী কিছু ওঠাবেন না।
* যোগব্যায়াম, মেডিটেশন ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। পিঠে ও কোমরে হালকা ম্যাসাজও করা যেতে পারে।