প্রচ্ছদ জীবন-যাপন “কোরান হাতে নিয়েও পিতার ধ*র্ষণ থেকে বাঁচতে পারেনি মেয়ে!”

“কোরান হাতে নিয়েও পিতার ধ*র্ষণ থেকে বাঁচতে পারেনি মেয়ে!”

311
কোরান হাতে নিয়েও পিতার ধর্ষণ থেকে বাঁচতে পারেনি মেয়ে!

*প্রতিটি মেয়েরই স্বপ্ন থাকে পিত্রালয় থেকে লাল শাড়ি পরে বধূর সাজে শ্বশুরালয়ে যাওয়ার। পিতা-মাতার আশীর্বাদ নিয়ে শুরু করবে তার নতুন জীবন। প্রায় সব মেয়েই এমন স্বপ্ন দেখে। অনেক মেয়ের মতো রেজিনাও (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) এমনই স্বপ্ন দেখেছিলেন হয়তো।
কিন্তু তার এই স্বপ্নে বিষধর সাপ হয়ে ঢুকে পড়ে তার নিজেরই জন্মদাতা ল*ম্পট পিতা; যে নিজের কিশোরী মেয়েকে ধ*র্ষণ করেছে। মাত্র ১৩ বছর বয়সেই নিজের পিতা কর্তৃক ৩ বার ধ*র্ষণের শিকার হয়েছিলো জানিয়ে রেজিনা বলেন, ‘তিনি আমার জীবন নিয়ে খেলেছেন।’

*‘আমি অভিশপ্ত; এর কারণ তিনি, সব মানুষ; যারা আমার স্বপ্নকে ক্ষত-বিক্ষত করেছে।’ তিনি বলেন, ‘পা*শবিক লা*লসায় অন্ধ হয়ে গিয়েছিল ওই মানুষটি। র*ক্তাক্ত হওয়ার পর বার বার আকুতি জানিয়েও তার লা*লসা থেকে রেহাই পাইনি।’ প্রতিবারই শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে বাধ্য করা হতো বলে জানান এই কিশোরী।
চোখের পানির সঙ্গে লড়াই করছে এই কিশোরী। নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে পাকিস্তানের জাতীয় দৈনিক ‘এক্সপ্রেস ট্রিবিউন’কে মুখ ঢেকে এক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।

*পাষণ্ড পিতার পাশবিকতার কথা স্মরণ করে রেজিনা বলেন, ‘তার মা তাকে উদ্ধারে এগিয়ে এলে পুরো পরিবারকে খু*ন করার হু*মকি দিতেন। এমনকি মাকে তালাকেরও হু*মকি দিতেন। এমন অবস্থায় ছোট এক ছেলে ও অন্য ছয় মেয়েকে নিয়ে তালাকের কথা চিন্তাও করতে পারতেন না মা। তিনি দিশেহারা হয়ে পড়তেন।’

*মেয়েটি তার পিতার হাত থেকে বাঁচতে কোরান হাতে নিয়ে সামনে যেতেন; এরপরও পিতার পা*শবিক লা*লসা থেকে রক্ষা পেতেন না তিনি। ‘আমার দাদার কাছে যেতাম; তিনি বিশ্বাস করতেন না। তিনি বলতেন, আমি মিথ্যা বলছি; তার ছেলে এমন কাজ কখনোই করতে পারে না। দাদা আমাকে ফেরত পাঠাতেন। দাদা আমাকে বলতেন, তিনি আমার জন্য কিছুই করতে পারবেন না।’

*ধ*র্ষণের শিকার এই কিশোরী দুঃসহ স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘তার পিতা একদিন তাকে জোর করছিলেন; এমন সময় পিতাকে হাতে-নাতে ধরে ফেলেন মা।’ কিশোরী বলেন, তার মা ওই সময় চিৎকার করে কান্না শুরু করেন। কিন্তু এতে রাগে ফেটে পড়েন পাষণ্ড এই মানুষটি; মাকে প্রচণ্ড মা*রধর করেন এবং তার গলায় ছুরি ধরেন। ‘যদি শব্দ করা হয় তাহলে মেয়েকে খু*ন করবেন বলে তিনি হু*মকি দেন।’

*রেজিনা বলেন, তার মা বিয়ের কথা চিন্তা করে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনাটি লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করতেন। একই সঙ্গে কিশোরীর মা তার ভাইদের সঙ্গে কথা বলেছেন; যারা ধ*র্ষক ওই পিতাকে শাস্তির মুখোমুখি করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

*একদিন ওই কিশোরীর মা বাড়িতে প্রবেশের পর দেখতে পান, মেয়েকে নিষ্ঠুরভাবে মারধর করছে তার পিতা। এসময় তিনি জানতে চান, ‘কেন মেয়েকে মারধর করা হচ্ছে। জবাবে ওই ল*ম্পট জবাব দেয়, তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে মেয়ে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।’

*মারধরের হাত থেকে মেয়েকে উদ্ধার করেন মা। পরে মেয়েকে ধ*র্ষণের অভিযোগ এনে নিজের ভাইদের সহায়তায় থানায় এফআইআর দায়ের করেন ওই কিশোরীর মা। যখন তাকে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেয়া হয় তখন রেজিনার কাছে ক্ষমা চায় তার পিতা। ধ*র্ষণের শিকার এই কিশোরী বলেন, ‘তিনি এখন তার পিতার প্রতি সহানুভূতি দেখানোর মতো অবস্থায় নেই।’

*‘তোমার পা ধরে, কোরান হাতে নিয়ে যখন তোমার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলাম তখন তুমি সৃষ্টিকর্তাকে ভুলে গিয়েছিলে, শা*স্তিই তোমার প্রাপ্য।’
১৩ বছরের এই কিশোরী তার পিতার বিরুদ্ধে কঠোর শা*স্তি নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ও পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতির প্রতি অনুরোধ জানান। পিতার কাছে পাশবিক ভোগান্তির যে শিকার হয়েছেন সেজন্য যাতে সুবিচার পান সেই ব্যবস্থা নেয়ারও আহ্বান জানান রেজিনা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তার (আইও) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার অপরাধ ও দোষ স্বীকার করেছেন সন্দেহভাজন।