প্রচ্ছদ চিলেকোঠা “প’র্নস্টার মিয়া খলিফার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথকে জড়িয়ে রসিকতা!”

“প’র্নস্টার মিয়া খলিফার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথকে জড়িয়ে রসিকতা!”

223
পর্নস্টার মিয়া খলিফার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথকে জড়িয়ে রসিকতা!

*সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোল অত্যন্ত জনপ্রিয়। যে কোনও ঘটনা নিয়ে তাৎক্ষণিক রসিকতার একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে এটি।
তবে কখনও কখনও তা নিয়ে জমে ঘোর বিতর্ক। সম্প্রতি কলকাতায় এরকমই এক ট্রোল নিয়ে চরম ঝড় বয়ে গেল নেটদুনিয়ায়। যেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও শিকার হতে হলো ট্রোল অপ-সংস্কৃতির। তাঁর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প’র্নস্টার মিয়া খলিফার নাম। ভারতের বেশ কয়েকটি বাংলা গণমাধ্যম এই নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

*রসবোধ যদি তলানিতে ঠেকে তবে তা নোংরামির পর্যায়ে পৌঁছায়। ঠিক একই রোগে আক্রান্ত হয়ে টোল সংস্কৃতিও ক্রমশ অপসংস্কৃতির দিকে এগিয়েছে। বেশ কিছু পেজের ট্রোল নিয়ে বিগত কিছুদিন ধরেই সরগরম নেটদুনিয়া। সেখানে কোথাও নারীর সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। কোথাওবা উ’সকে দেওয়া হয়েছে সাম্প্রদায়িকতা। শ্লে’ষের সীমারেখা টানার হেরফের হলেই তা আক্র’মণের জায়গায় গিয়ে পৌঁছায়। যেহেতু সোশ্যাল মিডিয়া একটি অসম্পাদিত মাধ্যম, তাই এ নিয়ে কোনও নিয়ম-নৈতিকতারও ধার ধারেন না ট্রোলের জনকরা। সেরকমই এক ট্রোল আঘাত করল বাঙালির আত্মমর্যাদায়। যেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পাশে দেখা গেল পর্নস্টার মিয়া খালিফাকে। জুতা পরেই সিটে পা, শাহরুখের কীর্তিতে বিতর্কের ঝড়।

*সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে এই ট্রোলের ছবি। ১৯৩৫ সালের এক দুর্লভ চিত্র বলে কেউ বা কারা তা ছড়িয়ে দিয়েছে। অবশ্য এটি যে কোনও দুর্লভ চিত্র নয়, তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি কারওরই। বরং যে ঔদ্ধ’ত্যে এটি করা হয়েছে তাইই বিস্মিত করেছে নেটিজেনদের একাংশকে। বহু নেটিজেনই প্রতিবাদ জানিয়ে বলছেন, এই অসম্মানের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হোক। বিশ্বমানব রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে বাঙালির বিশেষ আবেগ জড়িয়ে আছে বলেই শুধু এই প্রতিবাদ নয়। ট্রোল বানানোর নেশা যেভাবে অসম্মান-আক্রমণের পর্যায়ে পৌঁছে শালীনতার সীমা ছাড়াচ্ছে তার বিরুদ্ধেই সরব শিক্ষিত মানুষ।

*এর আগেও ট্রোল বানিয়ে বিভিন্ন পেজ বিতর্ক তৈরি করেছে। সেখানে টার্গেট করেই ঠাট্টা করা হয়েছে নারীদের ঋতুকালকে। এমনকী তা নিয়ে কোনও প্রতিবাদ হলেও, ডার্ক হিউমার বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় গালিগালাজ করা হয়েছে প্রতিবাদকারীকে। এই ট্রোলের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। অসম্পাদনার সুযোগ নিয়েই, সস্তা জনপ্রিয়তার লো’ভে এ কাজ কেউ কেউ করে চলেছেন বলে এক শ্রেণির সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর বিশ্বাস। তবে এই প্রবণতাকে আটকাতে সচেষ্ট অনেকেই। নেটজুড়ে তাই এই ট্রোলের তীব্র নিন্দা করা হয়েছে।