প্রচ্ছদ বিনোদন “নারীদের যৌ*ন চাহিদা মেটাবে পুরুষ সে*ক্স-ডল”

“নারীদের যৌ*ন চাহিদা মেটাবে পুরুষ সে*ক্স-ডল”

6127
নারীদের যৌন চাহিদা মেটাবে পুরুষ সেক্স-ডল

*সেক্স ডল নিয়ে চাহিদা মেটানোর তালিকাতে বিশ্বের অনেক পুরুষই রয়েছে। তৃতীয় বিশ্বের মানুষেরা রোমান্টিক পার্টনার হিসাবে অনেকেই সেক্স ডলকে বেছে নিচ্ছেন।
এই পুতুলের ব্যবহার একদিকে যেমন সম্পূর্ণ নিরাপদ, প্রেগনেন্সিরও কোনও ভয় থাকে না। তেমনই আরামের দিক থেকেও সন্তুষ্টি শতকরা ১০০ শতাংশ।

*ফলে নিজের শারীরিক চাহিদা মেটানোর জন্যে এহেন সেক্স ডলের জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু এটা সম্পূর্ণটাই তো পুরুষদের কথা! কিন্তু একজন মহিলা কীভাবে নিজের চাহিদা মেটাবেন। তাঁরা কি সেক্সডল ব্যবহার করতে পারবে?
চিন্তার কিছু নেই! প্রতিদিন বদলে যাচ্ছে সমাজ, চিন্তা। আর সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আবিস্কার হচ্ছে একের পর এক সামগ্রী। তেমনই এবার মহিলাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে বাজারে আসছে পুরুষ সেক্স ডল।

*সম্প্রতি বিশ্বে প্রথমবারের জন্যে পুরুষ সেক্স ডল প্রকাশ্যে নিয়ে আসা হয়েছে। চাহিদা মেটাতে একজন মহিলা সুপুরুষের কাছ থেকে কি চায়? সেই বিষয়টিকে মাথায় রেখেই পুরুষ সেক্স ডলটিকে তৈরি করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, পুতুলের শারীরিক গঠনও তৈরি করা হয়েছে অনেক চিন্তা মাথায় রেখেই। যদিও এই ধরণের পুরুষ সেক্স ডল কিনতে গেলে গাটের কড়ি অনেকটাই খরচ করতে হবে। আর এর উপরে যদি নিজের পছন্দের মতো করে পুরুষ সেক্স ডল বানাতে চান, সেই সুযোগও রয়েছে। যদিও এজন্যে আরও কিছুটা বাড়তি টাকা খরচ করতে হবে।

মানুষ ও সেক্স ডল

*বাংলাদেশের সমাজে থাকি। ছোটবেলা থেকে অনেক নারী-পুরুষের শ্রদ্ধা, ভক্তিপূর্ণ প্রেমময় প্রেমের জীবন, দাম্পত্য জীবন দেখার সুযোগ আমার হয়েছে।
আমার মনে মনে গর্ব হয় এজন্য যে, আমি যৌনজীবনে একগামিতাকে সমর্থনকারী ভারতীয় সংস্কৃতির মাঝে বড় হয়েছি এবং রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, শরৎচন্দ্র ও অন্যান্য গুণী বাঙালি লেখকদের প্রেমের গল্প ও উপন্যাস পড়ার সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু যদি আমি পশ্চিমা সংস্কৃতির বহুগামিতা সমর্থনকারী কোনো দেশে জন্মাতাম, তবে আমি যৌনজীবনে একগামিতাকে সমর্থনকারী কোনো নিয়মের প্রতি হয়ত শ্রদ্ধা প্রদর্শন নাও করতে পারতাম।

*পশ্চিমা যৌনজীবন সম্পর্কে সিনেমা, নাটক, গল্প ও বন্ধু-বান্ধবদের কাছ থেকে যেসব ধারণা পেয়েছি, তার বেশির ভাগই আমার কাছে অতি আদিখ্যেতা মনে হয়েছে। আমি আমার কিছু লেখায় এসব বিষয়ে কিছু মতামত ব্যক্তও করেছি- যা সাধারণ পাঠকসহ আমার বেশকিছু প্রগতিশীল বন্ধুদের ভালোও লেগেছে। আজ ‘মানুষ ও সেক্স ডল’ লেখাটিতে আমি নারী-পুরুষের সুস্থ প্রেমময় যৌনজীবন সম্পর্কে আরো কিছু মতামত ব্যক্ত করবো, যা গ্রহণ করা বা না করা মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু আমরা বড়রা ভবিষ্যত প্রজন্মকে কীভাবে সুস্থ, প্রেমময় জীবনে বাঁচিয়ে রাখতে চাই, তাও ভেবে দেখার মতো বিষয়।

*আমি বাংলাদেশে অনেক দম্পতি দেখেছি, যারা স্বামী, সন্তান, সংসারের জন্য জীবনের সবটুকু রস নিঃশেষ করে এবং সুখ-দুঃখ মিলে তাদের জীবন কাটে অনবদ্য সুস্থ প্রেমের মধ্য দিয়ে। তবে এর ব্যতিক্রমও দেখেছি। আমি দেখেছি, যৌনজীবনে প্রেমিক-প্রেমিকার প্রতারণা, স্বামী-স্ত্রীর প্রতারণা, নারীদের উচ্ছৃঙ্খল যৌনজীবন এবং যৌনজীবনে অনেক যৌনসঙ্গী থাকার পরেও নারী-পুরুষের ‘খাই খাই’ ভাব বজায় থাকা।

*তবে আমি অনুভব করেছি, যে নারী-পুরুষ ভালোবেসে সন্তান, সংসার নিয়ে শ্রদ্ধার সাথে জীবন-যাপন করতে পারেন, তারা তাদের নিজের জীবন এবং সমাজের জন্য নিরাপদ। এই অবস্থাটা বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে বর্তমানে অনুপস্থিত।

*যৌনজীবনে ভাত-তরকারি খাওয়ার মতো ‘একজনে বহু দেহ খাওয়া’ নীতিটা বর্তমানে অনেক দেশের সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতি যে দেশেই থাকুক না কেন, পুরুষরা সবসময় সবদেশে নারীদের ওপর এক্ষেত্রে আগ্রাসী এবং অত্যাচারী। নারীরাও অনেক ক্ষেত্রে অনেক উচ্ছৃঙ্খলতার পরিচয় দেন। কিন্তু পুরুষের তুলনায় তা কম।

*মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়াসহ অনেক নারীবাদী, মানবতাবাদী লেখকরা নারীদেরকে পুরুষ সমাজ যেন পুতুল না ভাবে, সেজন্য সমাজের কাছে আবেদন জানিয়ে গেছেন। কিন্তু সমাজকে প্রকৃত অর্থে মানবিক করার শিক্ষায় আমরা সবাই অনেক পিছিয়ে। তাই, নারীদের পুতুল ভাবাটা সব দেশের সব সমাজে স্বাভাবিক প্রবণতা।

*নারীরা ধর্ষিত হয়- এটা সব দেশের রোগ। অনেকে মনে করেন, সমাজে পরস্পরের সম্মতির ভিত্তিতে স্বাধীনভাবে ইচ্ছেমত যৌনসম্পর্ক গড়ে তোলার রীতি প্রচলিত থাকলে নারী ধর্ষণ কমবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, যেসব দেশকে ফ্রি সেক্সের দেশ বলা হয়, সেসব দেশেও প্রচুর ধর্ষণ হয়। এক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোতে আইনের শাসনটা তড়িৎগতিতে হয়, এতটুকু পার্থক্য মাত্র।

*আমরা মানুষরা আমাদের বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে যেমন সুস্থ, সুশৃঙ্খল হতে পারি, তেমন অসুস্থ, উচ্ছৃঙ্খলও হতে পারি। ভালোবাসাহীন যৌনসম্পর্ক জীবনকে কতটা নিচে নামাতে পারে, আর ভালোবাসাপূর্ণ যৌনসম্পর্ক জীবনকে কতটা ওপরে ওঠাতে পারে, তা গভীর জ্ঞানের অধিকারী মানুষরাই কেবল অনুভব করতে পারেন।

*আজকাল বিশ্বে সেক্স ডল নামক যৌনযন্ত্র অনেক দেশে পাওয়া যাচ্ছে এবং ব্যবহৃত হচ্ছে। চীন দেশে এই সেক্স ডল প্রচুর তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশেও এসব সেক্স ডল বিক্রি হচ্ছে। আমি আমার সুস্থ শিক্ষিত মস্তিষ্কে কোনো ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না এই বিষয়ে ঘৃণা প্রকাশ করার মতো। আমি মনে করি, আমরা মানুষরা প্রেমময় মানুষের সমাজ গড়ে তুলতে পারছি না বলেই নারী-পুরুষের যৌন ভোগবাদিতা এই পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে।

*মূলত শিশুদের আমরা ছোটবেলা থেকে কোন ধরনের চিন্তা-চেতনার মধ্যে বড় করে তুলছি, তার ওপর নির্ভর করে শিশুরা বড় হয়ে সব কাজে কীভাবে আনন্দ নেবে এবং কীভাবে সবকিছু উপভোগ করবে। আমাদের শিশুদের শিক্ষিত করার ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সমাজ, দেশ ভোগবাদিতা ঢুকিয়ে দেয় শিশুদের মস্তিষ্কে। অশিক্ষিত বা কুশিক্ষিত মানুষ পশুর মতোই থাকে। এইসব মানুষ নিজের কাজের মধ্য দিয়ে অন্যের ক্ষতি বা নিজের ক্ষতি সম্পর্কে চিন্তা করে না। আবার সুস্থ সংস্কৃতি, সুস্থ শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষ নিজের কাজের মাধ্যমে অন্যের বা নিজের ক্ষতি করতে তৎপর হয় না।

*প্রাকৃতিকভাবে নারী-পুরুষের যৌন চাহিদা মেটানোর জন্য জীবন্ত শরীরের প্রয়োজন হয়। যে নারী বা পুরুষ যৌনজীবনে পুতুলের মতো বা যন্ত্রের মতো আচরণ করেন তাকে সুস্থ কেউ যৌনসঙ্গী হিসেবে পছন্দ করেন না। কারণ, যৌনজীবনে মানুষের দরকার হয় জীবন্ত রসময় বা রসময়ী নারী-পুরুষ। কিন্তু সেখানে যৌন পুতুল বা সেক্স ডল যখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে, তখন বোঝাই যাচ্ছে, যৌন ভোগবাদিতা কোন স্তরে নেমে গেছে! অন্তত কবিগুরু রবি ঠাকুরের সংস্কৃতির মানুষ হিসেবে এই যান্ত্রিকতা দেখে আমার হাসি আর কান্না দুটোই আসছে।

*অনেক দেশে অনেক লোক এবং আমাদের দেশেও কিছু স্ত্রী বা স্বামী মনে করছেন, যখন সঙ্গী কাছে না থাকে, তখন যৌন চাহিদা পূরণের জন্য সেক্স ডলের সহযোগিতা নেওয়া নিরাপদ এবং বিশেষ বিশেষ দেশে নিজেকে কলঙ্কমুক্ত রাখতে বা অতৃপ্ত যৌন চাহিদা মেটাতে সেক্স ডলই উত্তম। কারো কারো মতে এটা যৌনসঙ্গীর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার হতে পারে, তাতে কারো ক্ষতি নেই। আবার কেউ কেউ মনে করেন যে, যাদের বিয়ে বা প্রেম করতে ইচ্ছে করে না অথবা যৌন সঙ্গী হিসেবে মানুষকে ভালা লাগে না, তারা যৌন চাহিদা মেটাতে অন্যান্য কৃত্রিম উপায়গুলোর পরিবর্তে সেক্স ডল ব্যবহার করতে পারেন।

*আবার কোনো কোনো দেশের লোকজনের মতামত হলো, যৌন তৃপ্তি বিষয়টা অনেকটাই মানসিক, যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবসময় শারীরিক কসরতটাই আসল নয়। নারীপুরুষের রোবটের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন নারীপুরুষকে রোবট বানিয়ে দেবে। রোবটের সাথে সেক্স করা আর মরা মানুষের সাথে সেক্স করা সমান। সেক্স ডল পুরুষের যৌন চাহিদা হয় বাড়িয়ে দেবে অথবা পুরুষদের নপুংসক বানিয়ে দেবে। কারণ, পুরুষদের কৃত্রিম যৌন চাহিদা মেটানোর উপায়গুলো পুরুষের শরীরের ক্ষতি করে, এটি পরীক্ষিত। সেক্স ডল পদ্ধতি পুরুষকে নারীবিদ্বেষী এবং নারীকে পুরুষ বিদ্বেষী করে তুলবে।

*অনেক দেশের অনেক মানুষ যৌনতার মাঝে প্রেম থাকা জরুরি নয় বলে মনে করেন। তাই, তারা স্বামী বা স্ত্রীর কারো একটু শারীরিক সমস্যা হলেই পুরুষরা পতিতালয়ে দৌড় দেন এবং নারীরা গোপনে অন্য পুরুষের কাছে দৌড় শুরু করেন।

আমি মনে করি, প্রেমহীনতা মানব সমাজকে পশুর স্তরে রেখে দেয় এবং সম্পূর্ণ সমাজকে যান্ত্রিক করে তুলে কৃত্রিমতায় ভাসিয়ে দেয়। নীতি-নৈতিকতা, প্রেম-ভালোবাসা, একগামিতাও অনেক দেশে স্বীকৃত। এসব নীতিতে যারা বিশ্বাসী, তারাও অন্যের ক্ষতি করে না।

*জীবন্ত প্রেম, ভালোবাসা, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি ইত্যাদি যেসব সমাজে আছে, তাদের জীবন সবচেয়ে সুস্থ এবং সুন্দর। কারণ, এই ধরনের চিন্তা-চেতনার মধ্যে দায়িত্ববোধ, প্রেমবোধ বেশি থাকে। নারী-পুরুষের প্রেমময় সঙ্কোচহীন যৌন সম্পর্ক সুস্থ সমাজ সৃষ্টিতে এবং নারীকে পুতুল না ভাবাতে সহায়ক।তিল তিল পরিশ্রমে স্বামী স্ত্রী মিলে গড়ে ওঠে সংসার এবং তাদের মাঝে আসে ভবিষ্যত মানব শিশু। ভালোবাসাপূর্ণ জীবনে একজন স্ত্রী তার স্বামীর জন্য এবং একজন স্বামী তার স্ত্রীর জন্য যৌন মিলনের অপেক্ষায় কিছু সময় নষ্ট করতে দ্বিধা বোধ করে না বা দুঃখিতও হয় না। যারা যৌন মিলনে প্রেম থাকা আবশ্যক মনে করেন, তারা তাদের যৌন সঙ্গীর জন্য অপেক্ষা করতে জানেন। এই অপেক্ষা অনেক মধুর এবং কোনোভাবেই কষ্টকর নয়।