বাড়ি মুক্ত মতামত *বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রের রহস্য উন্মোচন করাও আওয়ামী লীগ সরকারের একটি দায়িত্ব*

*বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রের রহস্য উন্মোচন করাও আওয়ামী লীগ সরকারের একটি দায়িত্ব*

9

*বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রের রহস্য উন্মোচন করাও আওয়ামী লীগ সরকারের একটি দায়িত্ব , আজ ১৯ নভেম্বর। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার বিচারের বার্ষিকী। ২০০৮ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের চূড়ান্ত রায় প্রকাশ করে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। একটি কলঙ্কমুক্তির ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের বিচার, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বড় অর্জন। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার পদে পদে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছিল। *

*বিভিন্ন সময়ে বিচার বন্ধের ষড়যন্ত্র হয়েছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি। হত্যাকাণ্ডের পরপরই জাতির পিতার হত্যাকান্ডের যেন কোন বিচার না করা হয়, সেজন্য ইনডিমিনিটি অধ্যাদেশ জারি খুনি মোশতাক সরকার। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে সেই ইনডিমিনিটি অধ্যাদেশ কেবল বহালই রাখেন নি, বরং ইনডিমিনিটি অধ্যাদেশের আওতায় যে সমস্ত খুনিরা পরেছিল তাদেরকে কূটনৈতিক চাকরী দিয়েছিলেন এবং বিদেশে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। *

*হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতায় এসেও বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের কোন উদ্যোগ নেননি, বাতিল করেনি ইনডিমিনিটি অধ্যাদেশ। বরং তিনি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের কে পদোন্নতি দিয়েছিলেন। এরপর ৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এলে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সূচনা হয়। সে সময় সকলে প্রত্যাশা করেছিল যে, কালো আইন ইনডিমিনিটি আদেশ বাতিল হবে এবং বঙ্গবন্ধুর খুনিদেরকে বিচার করা হবে। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়াও জিয়া-এরশাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন এবং তিনিও খুনীদেরকে কূটনৈতিক চাকরিতে পদোন্নতি দিয়ে আরেকটি কলঙ্কজনক অধ্যায় রচনা করেন। *

*অবশেষে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ইনডিমিনিটি অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। তৎকালীন আইন, বিচার ও সংসদ প্রতিমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু জাতীয় সংসদে এই বিলটি পাস করেন। এরপর শুরু হয় যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া। এই সময়ে বিভিন্ন মহল থেকে বলা হয়েছিল যে দ্রুত বিচার আইনে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করার জন্য। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতি আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। আর সে কারণেই তিনি দ্রুত বিচারের পথে না গিয়ে প্রচলিত আইনে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ বেছে নেন।*

*আর এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে  বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার প্রায়ই বিভিন্ন সময় বাক্সবন্দী হয়েছিল। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার আগে শুধুমাত্র নিম্ন আদালতে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারের রায় দেওয়া হয়েছিল। উচ্চ আদালতের একের পর এক বেঞ্চ এই মামলা নিয়ে বিব্রত প্রকাশ করতে থাকে। ২০০১ এর নির্বাচনের পর বিএনপি-জামাত জোট সরকার যখন ক্ষমতায় আসে তখন এটি আপিল বিভাগে এসে থমকে যায়। আর সে সময় আপিল বিভাগে বিচারকের স্বল্পতা দেখিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারকে বিলম্বিত করা হয়।*

*তৎকালীন আইনমন্ত্রী প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ তার বইয়ের স্বীকার করেছেন যে, রাজনৈতিক কারণে বঙ্গবন্ধুর বিচার আটকে গিয়েছিল। এটি তার একটি ব্যর্থতা। ২০০৮ সালে আবার বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে এবং এর পরপরই বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চূড়ান্ত রায় দেয়া হয়। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে এ রায় কার্যকর করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হলেও এই হত্যাকান্ডের পেছনে যারা ষড়যন্ত্রকারী, নেপথ্যের কুশীলব এবং যারা এই হত্যাকান্ডের পটভূমি তৈরি করেছিল তাদের বিচার হয়নি। *

*গত কয়েক বছর ধরেই বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রেক্ষাপট, এর ষড়যন্ত্র এবং কার কি ভূমিকা নিয়ে এ নিয়ে একটি তদন্ত কমিশন গঠনের কথা বলা হচ্ছে এবং সেই তদন্ত কমিশনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু হত্যার আদ্যোপান্ত জাতির সামনে তুলে ধরার দাবি উঠছে। আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন নেতা এবং মন্ত্রীও এ দাবি উচ্চারণ করছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই ধরনের কোন কমিশন গঠিত হয়নি।*

*সংশ্লিষ্টরা মনে করেন যে, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার যেমন আমাদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রার একধাপ, তেমনি এই হত্যার ষড়যন্ত্রের রহস্য উন্মোচন করাও আওয়ামী লীগ সরকারের একটি দায়িত্ব। এ দায়িত্ব আওয়ামী লীগকে পালন করতেই হবে। *

পূর্ববর্তী নিবন্ধ*মঞ্চে গান গাওয়ার সময় দর্শকদের সামনে প্যা’ন্ট খু’লে ভক্তের মুখে প্র’স্রাব করলেন গায়িকা*
পরবর্তী নিবন্ধ*সরকার খালেদা জিয়াকে জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে*